ভারী বর্ষণে রাজস্থলীতে ভূমিধসের মুখে ৬৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী নাইক্যছড়া আগা পাড়া বৌদ্ধ বিহার, জরুরি গাইড ওয়াল নির্মাণের দাবি
ভারী বর্ষণে রাজস্থলীতে ভূমিধসের মুখে ৬৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী নাইক্যছড়া আগা পাড়া বৌদ্ধ বিহার, জরুরি গাইড ওয়াল নির্মাণের দাবি
মোঃ আইয়ুব চৌধুরী, রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নাইক্যছড়া আগা পাড়া বৌদ্ধ বিহার ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রায় ৬৯ বছরের পুরোনো এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে গাইড ওয়াল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বিহার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিহারের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৪০ ফুট এবং পশ্চিম পাশে প্রায় ৩৫ ফুট এলাকাজুড়ে ওয়ালসহ মাটি ধসে পড়েছে। এতে বিহারের পুরাতন ও নতুন উভয় ভবনই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে বিহারে যাতায়াতের প্রধান সড়ক নাইক্যছড়া রোডের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে পড়ায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিহার সংশ্লিষ্ট ভিক্ষুসংঘ, শিক্ষার্থী, অনাথালয়ের বাসিন্দা এবং স্থানীয় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ভূমিধসের এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ভূমিধসে বিহারের ভবন, আশপাশের স্থাপনা এবং মানুষের জানমালের ক্ষতি হতে পারে। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নাইক্যছড়া আগা পাড়া বৌদ্ধ বিহার দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত উঃ খেমাচারা মহাথের একই সঙ্গে বাঙ্গালহালিয়া আগা পাড়া বৌদ্ধ কল্যাণ অনাথালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ভদন্ত উঃ খেমাচারা মহাথের বলেন, “সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে বিহারের পাশের মাটি ধসে পড়ায় পুরো স্থাপনাটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ না করা হলে ভবিষ্যতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।” বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণে নাইক্যছড়া আগা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের পাশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূমিধস হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
দ্রুত প্রকৌশলগত জরিপ করে প্রয়োজনীয় গাইড ওয়াল নির্মাণসহ স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিহারটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে বলে আমি মনে করি।” এলাকাবাসীর দাবি, বিহারটি শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি শিক্ষা, মানবিক কার্যক্রম ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দ্রুত পরিদর্শন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র মূল্যায়ন এবং জরুরি ভিত্তিতে টেকসই গাইড ওয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়রা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভূমিধসপ্রবণ অংশ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ এবং নাইক্যছড়া সড়কে জমে থাকা পাহাড়ধসের মাটি অপসারণ করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স